Take a fresh look at your lifestyle.

কোষ্ঠকাঠিন্য হলে করণীয় – পায়খানা ক্লিয়ার হওয়ার উপায় কি?

0

অনেকেরই পায়খানা ক্লিয়ার না হলেই কোষ্ঠকাঠিন্য (Constipation) এর লক্ষণ বলে চিন্তা করতে থাকেন এবং এটি দূর করার ঔষধ বা পায়খানা না হলে কি করা উচিত বা নিয়মিত পায়খানা হওয়ার উপায় হিসেবে কি কি করণীয়, এর জন্য খাবার এমনকি ব্যায়াম নিয়েও ভাবনা চিন্তা শুরু করেন অনেকেই।

জেনে রাখা ভালো – কোষ্ঠকাঠিন্য মানে শক্ত পায়খানা হওয়া বা প্রতিদিন পায়খানা না হওয়া। একেই সাধারণত আমরা কোষ্ঠকাঠিন্য বলে জানি। অসুখ বা উপসর্গ হিসেবে যতটা না মারাত্মক কোষ্ঠকাঠিন্য মানে অনেক বেশি অস্বস্তি। আসুন আজ জেনে নেই কোষ্ঠকাঠিন্য সম্পর্কে।

কোষ্ঠকাঠিন্য হলে করণীয় – পায়খানা ক্লিয়ার হওয়ার উপায় কি?
কোষ্ঠকাঠিন্য কি ?
শক্ত ও পরিমাণে কম এবং সপ্তাহে তিন বারের কম পায়খানা হওয়া কে কোষ্ঠকাঠিন্য বলে। তবে বয়স, মল ত্যাগের অভ্যাস, মলের ধরনভেদে কোষ্ঠকাঠিন্য বিভিন্ন রকম হতে পারে, যেমনঃ যাদের দৈনিক দু বার মলত্যাগ হয় তাদের জন্য একদিন মলত্যাগ না হলে সেটাই কোষ্ঠকাঠিন্য। আবার যাদের মল এমনিতেই একটু নরম হয় তাদের স্বাভাবিকের চেয়ে একটু বেশি শুকনো মলই কোষ্ঠকাঠিন্য। শক্ত ও কঠিন মল ছাড়াও কোষ্ঠকাঠিন্য হলে মলত্যাগে অনেক বেশি সময় এবং চাপ দেয়া লাগে। মলত্যাগের পরেও অসম্পূর্ণ মনে হতে পারে। মলদ্বারের আশেপাশে ও তলপেটে ব্যথা বা অস্বস্তি বোধ হয়।

কোষ্ঠকাঠিন্য অথবা পায়খানা না হওয়ার কারণ
কোষ্ঠকাঠিন্য কোন অসুখ ছাড়াই হতে পারে তবে কখনো কখনো কোন রোগের উপসর্গ হিসেবে দেখা দেয়। এছাড়া এর সাথে খাদ্যাভ্যাস, লাইফ স্টাইল ও অন্যান্য বিষয় জড়িত। যেমনঃ

পরিবেশ পরিস্থিতি (যেমন অফিসে, ভ্রমণের সময়, অপরিচিত জায়গায়) অনুযায়ী সময়মতো মলত্যাগ না করে চেপে রাখার প্রবণতা।
দুশ্চিন্তা ও মানসিক চাপ, শারীরিক পরিশ্রম না করা।
নিয়মিত ফাস্টফুড খাওয়া।
আঁশযুক্ত খাবার ও শাক সবজি না খাওয়া।
পর্যাপ্ত পানি বা তরল খাবার কম খাওয়া।
গর্ভকালীন সময়ে, যাদের দুধ এবং দুধ জাতীয় খাবার হজমে অসুবিধা হয়, অনেকের ক্ষেত্রে অতিরিক্ত চাপ-কফি।
অসুখ- স্ট্রোক, পারকিনসন্স ডিজিস, এক ধরনের ইরিটেবল বাওয়েল সিন্ড্রোমে, হাইপোথাইরয়েডিসম।
ওষুধ যেমন – ভিটামিন, আয়রন, ক্যালসিয়াম, এলুমিনিয়াম সমৃদ্ধ ওষুধ, ব্যথানাশক, ডিপ্রেশনের ওষুধ, উচ্চ রক্তচাপের ওষুধ, কফ সিরাপ।
কোষ্ঠকাঠিন্য হলে জটিলতা
দীর্ঘ দিনের কোষ্ঠকাঠিন্যে নানা রকম জটিলতা দেখা দেয়, যেমনঃ অর্শ(পাইলস), ফিস্টুলা, এনাল ফিশার(মলদ্বারে ব্যথা), রেকটাল প্রলাপ্স(মলদ্বার দিয়ে কোন কিছু বের হয়ে আসা), প্রস্রাবের সমস্যা, ইন্টেসটিনাল অবস্ট্রাকশন। কোষ্ঠকাঠিন্যের সাথে যদি কখনো মলের সাথে রক্ত যায়, ওজন কমে যায় তবে অবশ্যই চিকিৎসকের শরণাপন্ন হতে হবে, কারণ এটা অর্শ রোগ থেকে শুরু করে অন্ত্রের ক্যান্সারের লক্ষণ হতে পারে। এছাড়া কোষ্ঠকাঠিন্যের সাথে বমি, পেট ফুলে উঠা, তীব্র পেট ব্যথা থাকলে চিকিৎসকের কাছে যত দ্রুত সম্ভব দেখা করতে হবে।

আরো জেনে নিন

কোষ্ঠকাঠিন্য হলে করণীয় বা পায়খানা ক্লিয়ার হওয়ার উপায় কি?
আপনি যদি চান কিছু নিয়ম কানুন পালন করেও কিছটা স্বস্তি পেতে পারেন। কিন্তু স্থায়ী ভাবে এই সমস্যা থেকে আরোগ্য লাভ করতে হলে অভিজ্ঞ হোমিও চিকিৎসকের পরামর্শক্রমে চিকিৎসা নিতে হবে।

প্রতিদিন প্রচুর পরিমাণে বিশুদ্ধ পানি পান করতে হবে। কোষ্ঠকাঠিন্য দূর করতে গরম পানি পান করতে পারেন।
কোষ্ঠকাঠিন্য প্রতিরোধে প্রতিদিন বেশি করে শাকসবজি, ফলমূল ও আঁশযুক্ত খাবার খেতে হবে।
তৈলাক্ত খাবার, ভাজাপোড়া ও মাংস খাওয়া কমাতে হবে।
প্রতিদিন সকালে ইসবগুলের ভুসি খাওয়া যেতে পারে। দেখা গেছে এটিই অধিকাংশ ক্ষেত্রে ভালো ফল দিচ্ছে।
অধিক দুশ্চিন্তা কোষ্ঠকাঠিন্যের একটি কারন। তাই দুশ্চিন্তা মুক্ত থাকার চেষ্টা করতে হবে।
অনেকে মনে করেন রুটি খেলে কোষ্ঠকাঠিন্য হতে পারে কিন্তু আটা, বিশেষ করে লাল আটায় অধিক পরিমাণে আঁশ থাকে। তাই লাল আটায় কোষ্ঠকাঠিন্য হওয়ার সম্ভাবনা নেই তবে পরোটার ক্ষেত্রে কোষ্ঠকাঠিন্য হতে পারে। তাই অধিক পরিমানে পরোটা না খাওয়াই ভাল।
প্রতিদিন সময় করে কায়িক পরিশ্রম অথবা ব্যয়াম করতে হবে। এটি কোষ্ঠকাঠিন্য দূর করতে সহায়ক হতে পারে।
যদি কোষ্ঠকাঠিন্যের পাশাপাশি মলত্যাগের আগে কিংবা পরে রক্ত আসে অথবা মলের সঙ্গে রক্ত লেগে থাকে, এরকম ক্ষেত্রে দ্রুত একজন অভিজ্ঞ হোমিও চিকিৎসকের পরামর্শ নিতে হবে।
কোষ্ঠকাঠিন্য হলে চিকিৎসা
প্রচুর পানি(২ লিটার), তরল জাতীয় খাবার, গরম দুধ গ্রহণ। বেশি করে শাক সবজি, ফল ও আঁশযুক্ত খাবার খাওয়া। নিয়মিত ব্যায়াম এবং হাঁটা চলা করা। কোষ্ঠকাঠিন্য প্রতিরোধকারী খাবার যেমন ইসবগুলের ভুষি, বেল, পেপে, আলুবোখারা, কিসমিস, সিমের বিচি, বাদাম খাওয়া। দিনের এক বা একাধিক নির্দিষ্ট সময়ে মলত্যাগের অভ্যাস গড়ে তোলা।

তবে যদি কোষ্ঠকাঠিন্য থেকে স্থায়ীভাবে মুক্তি পেতে চান তাহলে আপনাকে অভিজ্ঞ একজন হোমিও চিকিৎসকের পরামর্শক্রমে প্রপার ট্রিটমেন্ট নিতে হবে। তাহলে এই সমস্যা থেকে স্থায়ী ভাবে মুক্তি পেতে পারেন।

হোমিওপ্যাথিতে কোষ্ঠকাঠিন্য নির্মূলের জন্য অনেক উন্নত ঔষধ রয়েছে যেগুলি পার্শপ্রতিক্রিয়ামুক্ত। যত দিনের যত পুরাতন কোষ্ঠকাঠিন্যই হোক না কেন – অভিজ্ঞ একজন হোমিও চিকিৎসকের পরামর্শক্রমে যথাযথ চিকিৎসা নিলে এই রোগ থেকে মুক্তি পাওয়া সময়ের ব্যাপার মাত্র।

বি: দ্র : ই্উটিউব থেকে প্রকাশিত সকল ভিডিওর দায় সম্পুর্ন ই্উটিউব চ্যানেল এর । এর সাথে আমরা কোন ভাবে সংশ্লিষ্ট নয় এবং আমাদের পেইজ কোন প্রকার দায় নিবেনা। ভিডিওটির উপর কারও আপত্তি থাকলে তা অপসারন করা হবে। প্রতিদিন ঘটে যাওয়া নানা রকম ঘটনা আপনাদের মাঝে তুলে ধরা এবং সামাজিক সচেতনতা আমাদের লক্ষ্য এবং উদ্দেশ্য ।

Leave A Reply

Your email address will not be published.